সরকারকে হটাতে বিএনপিকেই দায়িত্ব নিতে হবে, হতাশা ও ব্যর্থতা নিয়ে এগুনো যাবে না : মির্জা ফখরুল

0
156

সরকারকে হটানোর দায়িত্ব এবং নেতৃত্ব বিএনপিকেই নিতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না। হতাশা ও ব্যর্থতা নিয়ে এগুনো যাবে না। আমাদেরকে অবশ্যই আশাবাদী হতে হবে, জনগণকে সংগঠিত করতে হবে এমনই আশাবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ(২৬ জুলাই) দুপুরে বিএনপির প্রয়াত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ ভার্চুয়াল স্মরণসভায় যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই সভাটি আবদুল আউয়াল খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘স্মৃতিতে অম্লান’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, গেল বছরের ২০ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান আউয়াল।

দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোয় বেড নেই, অক্সিজেন নেই, আইসিইউ বেড খালি নেই এবং ক্ষেত্রবিশেষে ঔষধও নেই- এই একটা অবস্থা সরকার সৃষ্টি করেছে। এই ভয়াবহতায় জনগণের জীবন আজকে বিপন্ন এমনই অভিযোগ তুলেছেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ তুলেন, করোনা হবে মানুষ চিকিৎসা পাবে না, চিকিৎসায় ভুল হবে, চিকিৎসার অভাবে নিম্নআয়ের মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবনতির জন্য প্রতি সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। এই ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সময়ে এই সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। তাদের উদাসীনতা, অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও দুর্নীতি আজকে দেশকে এবং দেশের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে ফেলেছে। জীবিকাকে বিপন্ন করে ফেলেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগণকে যেন তিন মাসের জন্য এককালীন ১৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হয় আমরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারা(সরকার) সে বিষয়ে কোনো কথাই শুনেনি। জানতে পারি, তারা ২৮ হাজার কোটি টাকা যেই প্রণোদনা দিয়েছে তার শতকরা ৮৬% ভুয়া। অর্থাৎ তারা যে নামগুলো দিয়েছে সেখানেও তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামগুলো দিয়েছে যাতে করে তাদের দলের লোক সেই টাকা নিয়ে নিতে পারে। এটা সর্বক্ষেত্রেই হচ্ছে।

এ সময় মির্জা ফখরুল সিলেট উপ-নির্বাচন নিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করছি না। অথচ আমাদের নেতা-কর্মীদের অস্থির করে রেখেছে, বাড়িঘর তল্লাশি করছে। নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে।



দেশের রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাবের কথা টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন,  ১/১১ এর মূল্য লক্ষ্য ছিল বিরাজনীতিকরণ করা- সেটাই হচ্ছে এখন। এখন  রাজনীতির বাইরে কিছু শক্তিশালী মহল, কিছু শক্তিশালী দেশ, শক্তিশালী রাষ্ট্র অথবা কিছু শক্তিশালী শক্তি ইন্টারনাল ইনসাইড দি কাউন্ট্রি তারা রাজনীতিকে নির্মাণ করে। এই রাজনীতি ট্র্যাম্পট হয়ে চলে গেছে, যেখানে রাজনীতিবিদদের হাতে আর সেই ক্ষমতা নেই।

‘দেশনেত্রী  খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিকে ধরে রেখেছি, ধরে রাখার চেষ্টা করেছি, ধরে রাখতে পেরেছি। বিএনপিকে অনেকবার ভাঙার চেষ্টা হয়েছে, অনেকবার বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু কখনোই ভেঙে ফেলতে পারেনি।কারণ একটাই আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে দর্শন দিয়েছেন সেটা জনগণের অন্তুরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে। এমন আশাবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব।

সভায়  প্রয়াত আউয়াল খানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে রাজনীতির নক্ষত্র বলে আখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব।

ভার্চুয়াল এই সভায় আবদুল আউয়াল খান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও আহবায়ক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও প্রয়াত আবদুল আউয়াল খানের ছেলে আসাদুজ্জামান খান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআবারো করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড
পরবর্তী নিবন্ধফের গুজবের তোপে কুমিল্লা বিভাগ ইস্যু

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে