শিক্ষানগরী রাজশাহীতে পেশা বদলেছেন চার হাজার শিক্ষক

0
169

মোঃ তারেক রহমান, রাজশাহী প্রতিনিধি: দিশেহারা হয়ে পড়েছে রাজশাহীর সাড়ে চারশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলার প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুসারে রবিবার থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান শুরু হয়েছে।

কিন্তু করোনার এই দেড় বছরে দেড় শতাধিকের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে রাজশাহীতে। পাঠদান শুরু হলেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটের কারণে চালু করতে পারেননি কর্তৃপক্ষরা।

এছাড়াও বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, বিভিন্ন পদের কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়ে চরম বেকায়দায়  এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা ।

ইতোমধ্যে রাজশাহীতে ঝরে পড়েছে ৩৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। বেতন না পেয়ে চাকরি ছেড়েছেন প্রায় চার হাজার শিক্ষক। তারা এখন  শিক্ষকতা ছেড়ে পেশা বদল করেছেন ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজশাহী মহানগরের দাশপুকুরের শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক ইব্রাহিম হোসেন জানান,  করোনা মহামারির আগে তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল তিনশ’। এখন অর্ধেকেরও কম। সামনে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে- তা বলা সম্ভব না।

রাজশাহী কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম সারওয়ার স্বপন বলেন, গত বছরের ১৭ মার্চ সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগে বেসরকারি উদ্যোগে রাজশাহী জেলা এবং মহানগরে প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিলো।

এর মধ্যে জেলায় ছিল প্রায় দুইশ এবং মহানগরে আড়াইশ। তখন জেলায় ২৫-৩০ হাজার এবং মহানগরে ৩৫-৪০ হাজার শিক্ষার্থী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন । রাজশাহী জেলা এবং মহানগর মিলিয়ে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীর ছিল সাত হাজার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ার পরে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, জেলায় ইতোমধ্যে ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে । মহানগরীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতাধিক। এরমধ্যে প্রায় চার হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী বাধ্য হয়ে শিক্ষকতার চাকরি ছেড়েছেন। বাকি শিক্ষক এবং কর্মচারীরাও অনিয়মিত বেতন পাচ্ছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএবার তালেবান বিরোধীদের গ্রেফতার হুশিয়ারিতে তালেবান সেনাপ্রধান
পরবর্তী নিবন্ধকে কে ঠাঁই পেলেন টাইম ম্যাগাজিনের সেরা ১০০ জনের তালিকায়

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে