রাসেলের গ্রেফতারে দিশেহারা ইভ্যালি গ্রাহকরা

0
199

দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে র‍্যাব-২ এর একটা দল অভিযান শেষে তাদের গ্রেপ্তার করব। পরে সাদা গাড়িতে করে তাদেরকে র‍্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বাসায় অভিযান চলার ঘোষণা পেয়েই ইভ্যালির ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বাসার সামনে ভিড় জমান।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, বিকেল সাড়ে তিনটায় মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোড রোডের ৫/৫-এ নম্বর নিলয় কমপ্রিহেনসিভ ভবনে অভিযান শুরু করে র‌্যাব সদর দপ্তরের একটি টিম। পরে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে (প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান) গ্রেপ্তারের পর থেকেই তাদের মুক্তির জন্য অনলাইনে স্ট্যাটাস এবং সশরীরে রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন ইভ্যালি গ্রাহকরা। বিকেলে রাসেল এবং শামীমার গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় গ্রাহক পরিচয়ে বেশ কিছু মানুষ সেখানে জড়ো হন।

বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের বলতে থাকেন, রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রাহকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্ণধারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওইসব প্রতিষ্ঠান দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কেউই তাদের অর্থ ফেরত পাননি। এ সময় সেøাগান দিতে থাকেন রাসেল ভাইয়ের কিছু হলে জ¦লবে আগুন ঘরে ঘরে। রেদোয়ান নামে একজন গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির রাসেলকে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রেখে আরও কিছুদিন সময় দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়। গুলশান থানায় মামলাটি করেন ইভ্যালির গ্রাহক আরিফ বাকের। মামলায় ইভ্যালির অর্থবিষয়ক বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অভিযোগকারী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের গত ২৯ মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডারবাবদ মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে পণ্য প্রদান ও টাকা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানম-ির অফিসে যান। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা ইভ্যালির রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে আরিফ বাকেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের ভয়ভীতি ও হুমকিসহ দুর্ব্যবহার করায় তারা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছেন এবং পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মামলায় বাদী আরও উল্লেখ করেন, ইভ্যালি পণ্য বিক্রির নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার মতো অসংখ্য গ্রাহকের ৭০০-৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইভ্যালি গ্রাহকদের দাবি, টাকা যেন ফেরত পান তারা। সেজন্যে তারা রাসেলকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষপাতী। তাদের শঙ্কা আইনি জটিলতায় টাকা ফেরত নাও পেতে পারেন তারা।

এক গ্রাহক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি ৩ লাখ টাকার চেক পেয়েছি। এখন রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন আমার টাকার কী হবে। আমরা তো এতদিন আশায় ছিলাম যে, টাকা ফেরত পাব। কিন্তু তিনি যদি কারাগারে থাকেন, তাহলে তো আর টাকা ফেরত নাও পাওয়া যেতে পারে। এখন কী করব, কোথায় যাব?’

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাঁদপুরে দুই বছর বয়েসি সন্তানের সামনে মাকে কুপিয়ে হত্যা
পরবর্তী নিবন্ধকেমন শাস্তি পেতে পারেন ইভ্যালির রাসেল

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে