সাংবাদিক? এরা মরুক, কী আসে যায়!

0
992

আমি কেনো সাংবাদিক রোজিনা নির্যাতনে চুপচাপ আছি মেজেঞ্জারে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন। কারণগুলি খুব পরিষ্কার, প্রিয় পাঠক খুব নিকট অতীতের দিকে একটু লক্ষ্য করুন।

নোয়াখালীর বসুরহাটে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং তার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের অপর একটি গ্রুপের কর্মসূচিতে দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের নোয়াখালী প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির।

কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার চার দিন নিখোঁজ থাকার পর আহত অবস্থায় ছাড়া পেয়েও আতঙ্কে চিৎকার করে উঠেছিলেন, ‘আমি আর নিউজ করব না, আমাকে মারবেন না প্লিজ।’

সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২২ বছরে বাংলাদেশে অন্তত ৩৫ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। একদিকে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নানারকম ভয়ভীতি-হুমকির কারণে সাংবাদিকতার পরিসর সংকুচিত হয়ে উঠছে; আরেক দিকে, শারীরিকভাবে হামলা ও হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের।

ছোট্টো পরিসরের পরিসংখ্যান দিলাম, শত শত ঘটনা তো প্রতিনিয়ত রয়েছেই।

আমার প্রশ্ন হলো , বলুনতো উপরোক্ত ঘটনাগুলির কারণে আজ অবধি প্রথম আলোর কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করে সাংবাদিক নির্যাতন অথবা হত্যার বিচার চেয়েছিলো?

উত্তরে কেউ হাঁ বলবার সুযোগ নেই।

অনেকেই বলবেন তারা তো পত্রিকায় নিউজ করেছে। নিউজ করা আর অত্যাচার বা নির্যাতনের প্রতিকার এবং প্রতিবাদ করা এক কথা নয়। আজ যখন তাদের নারী সাংবাদিককে রাষ্ট্রের সরাসরি চাকর শ্রেণীর লোকেরা পিটিয়েছে , তার জন্য ঠিকই রাস্তায় নেমে এসেছে।

কিন্তু কে শুনবে কার কথা !

একদিকে আন্দোলন হবে আরেকদিকে বোঝাপড়ার লবিং শুরু হয়ে যাবে। 

পুরো গণমাধ্যম এক আজব চিড়িয়ায় রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে একদল সাংবাদিক কোনো কিছু লিখলে, আরেকদল এসে দেখে সরকারের পক্ষে গেলো নাকি বিপক্ষে। সরকারের পক্ষের সাংবাদিকের মাথায় বাড়ি পড়ার আগ পর্যন্ত সরকারের পদলেহনটাকেই সাংবাদিকতা বলেই মনে করে। তল্পিবাহক সাংবাদিকরাই সরকারকে গণমাধ্যমের আষ্টে পৃষ্ঠে জড়িয়েছে। অথচ গণমাধ্যম আর সরকার চলার কথা দুই মেরুতে।

সরকার সবার আপন হলেও গণমাধ্যমের আপন হবার কথা নয়। এটাই গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের চিরাচরিত নিয়ম। আর এতেই একটা রাষ্ট্র ও গণমাধ্যম সঠিক পথে চলতে পারে। অথচ আমাদের দেশের সাংবাদিকেরা করছে রাজনীতি আর রাজনীতিবিদেরা করছে সাংবাদিকতা। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে।

আজ ব্যক্তি রোজিনার উপর যে নির্যাতনের চিত্র দেখতে পেয়েছি, তা তল্পি বাহনের প্রতি এক চরম শিক্ষা। একজন সাহসী নারীর গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধাবোধ করছেনা চাকরেরা। অথচ একটা সময় ছিলো সাংবাদিকদের আনাগোনার কথা শুনলে সরকারি চাকরেরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেতো ভয়ে। কারণ তারা সবসময় গণমাধ্যমের কাছে জবাবদিহি করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে থাকতো।

প্রথম আলো যাই-ই করুক, নির্যাতিত সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের পাশে আছি। নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে ধ্বংস করার পেছনে যাদের হাত রয়েছে, তাদেরকেও চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কট করুন।

আজ রোজিনা নির্যাতিত হয়েছে, কাল আমি, পরশু আপনি নিশ্চিত থাকুন। 

সাইফুর সাগর
সঞ্চালক, ফেস দ্যা পিপল
এডিটর ইন চিফ, facethepeople.net

পূর্ববর্তী নিবন্ধসচিবালয়ে ৫ ঘন্টা হেনস্তার পর শাহবাগ থানায় সাংবাদিক রোজিনাকে সোপর্দ
পরবর্তী নিবন্ধআদালতে সাংবাদিক রোজিনা; ১১ টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে