আরো ৪৬ হেফাজত নেতার ব্যাংক হিসাব চেয়েছে বিএফআইইউ

0
89

নতুন করে আরও ৪৬ জন হেফাজত নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ। এর আগে চেয়েছিল ২৪ নেতা ও ৩০টি মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে চেয়েছিল তারা। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় হেফাজতের ইসলামের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সহিংসতার অর্থ জোগানদাতাদের উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)।

সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মী ও এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত এই গোয়েন্দা ইউনিট। নতুন করে যাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, প্রচার সম্পাদক গাজী ইয়াকুব উসমানী (কসবা), সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক শোয়াইব আহমেদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম কাসেমী, সক্রিয় সমর্থক আহমদ আলী কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মনির।

এছাড়াও তালিকায় ঢাকা মহানগরীর দায়িত্বশীলদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ আমিন, অর্থ সম্পাদক মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সদস্য নূর হোসাইন নূরানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, সহকারী অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক হারুন ইজাহার, যুগ্ম সম্পাদক জালাল উদ্দিন।

চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে হেফাজতে ইসলাম নেতাদের নামে খোলা হিসাবের যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদিসহ হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, টিপি, শুরু থেকে লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি পাঠাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৬ মার্চ দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার ওই সফরের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে হরতাল পালন করে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক সহিংসতা হয়, অগ্নিসংযোগ করা হয় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়। কয়েক দিনের সহিংস আন্দোলনে ১৩ জন মারা যাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ আহত হন। এসব সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য হেফাজতকেই দায়ী করে সরকার।

ব্যাপক বিতর্কের পর সংগঠনটির অনেক নেতাকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়। তাদের সহিংস আন্দোলনে কোনো সন্ত্রাসী অর্থায়ন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ৫ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, সাবেক মহাসচিব প্রয়াত নূর হুসাইন কাসেমী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মুহাম্মদ মামুনুল হকসহ ২৪ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছিল বিএফআইইউ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপিছিয়ে যাচ্ছে গুচ্ছ ভর্তিপরীক্ষার তারিখ
পরবর্তী নিবন্ধহেফাজতের নবগঠিত কমিটি: ওবাইদুর রহমান মাহবুবের ক্ষোভ প্রকাশ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে