মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়ম, অতিথিদের ক্ষোভ প্রকাশ

0
348

সাইফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক
উদ্বোধনের আগেই মডেল মসজিদ ভবনের ফ্লোরে থাকা টাইলস ফেটে উঠে যাওয়ায় এবং পিলার ও দেওয়াল বাঁকা হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিরা। মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন তারা।

প্রকল্পসূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিটি জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে একই ডিজাইনের মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এটি। সারাদেশের মত সালথা উপজেলা পরিষদের পাশে সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মডেল মসজিদের তিনতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এস রহমান এ্যাসোসিয়েশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করে।

স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, এই মডেল মসজিদে নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানারকম অনিয়ম দেখা গেছে। এখানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ঢালাইয়ের কাজে মোটা ডোমার বালু ব্যবহারের পরিবর্তে লোকাল বালু, নিম্নমানের পাথর ও ইট ব্যবহার করা হয়েছে। মার্বেল পাথরের টাইলস লাগানোর কথা থাকলেও নিম্নমানের চায়না টাইলস এনে লাগানো হয়েছে। তাছাড়া দক্ষ কর্মী দিয়ে নির্মাণ কাজ করা হয়নি। তাই উদ্বোধনের আগেই ফ্লোরের বিভিন্ন স্থানের টাইলস ফেটে চৌচির হচ্ছে এবং উঠে যাচ্ছে। ভবনের কয়েকটি পিলার ও দেওয়াল বাঁকা করে নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেখে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা অথিতিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সালথার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ মাতুব্বর বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এই প্রকল্প নিয়ে অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রীও মেনে নেবেন না। আমরা নির্মাণ কাজটি ঘুরে দেখলাম। নিয়মমাফিক কাজটি করা হয়নি। কাজে ব্যাপক অনিয়ম চোখে পড়েছে। যে কারণে উদ্বোধনের আগেই নিম্নমানের টাইলসগুলো ফেটে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি টাইলসই ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ফ্লোর ও দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে লাগানো টাইলস ধরলেই হাতের সাথে উঠে আসছে। পিলারগুলো এবং দেওয়াল বাঁকা হয়ে আছে। সাড়ে ১২ কোটি টাকার কাজে এত অনিয়ম আসলেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী মাহমুদুল হাসান বলেন, মসজিদটির নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ধর্মীয় কাজ হওয়ার পরও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সব মালামালই নিম্নমানের। যে কারণে দেওয়ালে হাত রাখলেই পলেস্তরা ও রং হাতের সাথে ওঠে আসে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা সকলেই মসজিদ নির্মাণ কাজের এমন দুর্দশা নিজ চোখে দেখে গেছেন।

ফরিদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক আশরাফ আলী বলেন, মসজিদ নির্মাণ কাজে কিছু অনিয়ম আমরা দেখেছি। ঠিকাদার কোম্পানি এসব ঠিক করে দিতে চেয়েছে।

কাজে অনিয়মের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ কাজের ঠিকাদার আতিকুর রহমান বলেন, উদ্বোধন করা হবে বলে তাড়াহুড়ো করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়েছে। এজন্য অনেক কাজই সঠিক বা শিডিউল মত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, তবে এখনও সময় আছে। আমি সব অসংগতি দূর করে দেব।

প্রসঙ্গত, মজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মডেল মসজিদের মধ্যে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরে একটি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালী এসব মসজিদ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এফটিপি/কাজী হামদুল্লাহ

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকার তৃণমূল মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিতে কাজ করছে -প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধইজরাইলি সেনাদের গুলিতে ৩ ফিলিস্তিনী নিহত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে