ত্বহা আদনান নিজেও গুম হয়ে থাকতে পারে -ব্যারিস্টার সুমন

আদনানের পরিবারকে আইনী সহায়তার আশ্বাস

0
725

আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান নিজেও গুম হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ফেসবুকের জনপ্রিয় অ্যাকটিভিস্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে সে নিজেও গুম হয়ে থাকতে পারে অথবা কোনো বাহিনীর কাছে সে থাকতে পারে। যেখানেই থাকুক সরকারের উচিত ন্যায়বিচারের স্বার্থে আবু ত্বহাকে খুঁজে বের করা।

বুধবার (১৬ জুন) ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সুমন এসব কথা বলেন। এছাড়াও আদনানকে খুঁজে বের করতে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আদনানের পরিবার যদি চায় তাহলে তাকে খুঁজে বের করতে হাইকোর্টে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ রিট মামলা করতে চাই।

তিনি বলেন, আদনানের পরিবার চাইলে এ বিষয়ে আমি আইনি সহায়তা দেব। তারা হাইকোর্টে এলে আমি এই রিট মামলা করতে চাই। আদনান যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকেন তাহলে হাইকোর্টের আদেশে অবশ্যই তাকে সামনে আনতে বাধ্য হবেন।

সুমন আরও বলেন, আমি বলতে চাই আদনানসহ চারজন নিখোঁজ আছেন। এখানে হারানো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, মানুষের মনে যদি এটা আসে এখানে গুম হয়ে গেলে আর বের হয় না মানুষ, তাহলে এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী হবে। মানুষ ন্যায় বিচার পেতে আস্থাহীন হয়ে পড়বে।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন রংপুর থেকে রাজধানী ঢাকার গাবতলী এলাকায় আসার পর তাঁর পরিবার তাঁর সাথে শেষবারের মতো যোগাযোগ করেছিল। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, এ বিষয়ে আদনানের মা আজেদা বেগম তাঁর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

তাঁর মা আজেদা বেগমের মতে আদনান (৩১) তাঁর পরিবার নিয়ে রংপুর শহরে থাকেন। অনলাইনে আরবি পড়ানোর পাশাপাশি তাঁর ছেলে মাঝে মধ্যে জুমআর নামাযের পূর্বে আলোচনা করার জন্য দেশের বিভিন্ন মসজিদে যান। এই শুক্রবার ঢাকার একটি মসজিদে আলোচনা করার জন্য গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রংপুর ছেড়েছিলেন আদনান। এসময় সফসঙ্গী হিসেবে আবদুল মুহিত, ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ আদনানের সঙ্গে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আদনানের স্ত্রী তাঁকে ফোন করলে তিনি জানান, তিনি তখন ঢাকার গাবতলীতে আছেন। এসময় তাঁর মোবাইল ফোনের ব্যাটারিতে চার্জ ফুরিয়ে এসেছিল। এরপর থেকে আদনান ও তাঁর সঙ্গীসহ তাদের সকল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজধানীর দারুসালাম থানার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, দারুসালাম থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তাঁরা এ ঘটনায় একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলেন এবং এর প্রেক্ষিতে তাঁরা আদনানের মোবাইলে শেষ ফোনকলের অবস্থান জানার চেষ্টা করেছিলেন।

দারুসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, “আমরা গাবতলীর সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি।”

আদনানের পরিবার আরও দাবি করেছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তাঁদের পোস্ট মুছে ফেলার জন্য তাঁদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ডিএমপির (ডিবি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, এই ঘটনা সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও রকম তথ্য নেই।

অপর দিকে আদনানের স্ত্রী সাবিকুন্নাহার তাঁর নিখোঁজ সন্ধানে সহায়ত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটিিআবেদনপত্র পাঠিয়েছেন। আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। এসময় স্বামীকে ফিরে পেতে মিডিয়া, প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আকুতি জানান তিনি।

এসময় তিনি বলেন, আপনারা হয় আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন অথবা আমাকে স্বামীর কাছে পৌঁছে দিন।
এফটিপি/কাজী হামদুল্লাহ

পূর্ববর্তী নিবন্ধফিলিস্তিনের পক্ষে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ সুদানকে ‘ঋণ মওকুফ’ সুবিধা দিলো

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে